https://ift.tt/G7gd8Pb
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পরপর দুটি মাছধরা ট্রলারডুবির ঘটনায় অন্তত সাত জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। প্রথম ঘটনায় ১৮ জেলের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও দুই জেলের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।
অপরদিকে চর বিজয় সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি ছোট ট্রলার ডুবে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হওয়ায় উপকূলজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে মো. তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন এফবি মহিমা ট্রলারটি ১৩ জন জেলেকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। মাছ শিকার শেষে ঘাটে ফেরার পথে অন্য একটি ট্রলার থেকে আরও পাঁচজন জেলে এতে ওঠেন। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে পড়লে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উলটে যায়।
দুর্ঘটনার সময় জেলে কালাম ও শহীদ ট্রলারের কেবিনে অবস্থান করায় তারা কেবিনে আটকা পড়ে তলিয়ে যান। অন্য জেলেরা সাগরে ভেসে থাকেন। পরে রাত ৩টার দিকে দুটি মাছধরা ট্রলার জেলেদের ভাসতে দেখে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। এর মধ্যে একটি ট্রলার ১২ জন এবং অন্যটি চারজন জেলেকে উদ্ধার করে নিরাপদে ঘাটে পৌঁছে দেয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন, দুলাল মাঝি, কামাল, মনির, ইমরান, জামাল, শামীম, খলিল, হৃদয়, আশরাফুল, ফারুক ও আল-আমিনসহ মোট ১৬ জন। তারা সবাই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। নিখোঁজ কালাম ও শহীদও একই এলাকার বাসিন্দা।
ট্রলারের মালিক মো. তপন জোমাদ্দার বলেন, ‘হঠাৎ করেই সাগর অস্বাভাবিকভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। আমাদের দুই জেলে এখনও নিখোঁজ। এক দফা তল্লাশি চালানো হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও অনুসন্ধান শুরু হবে।’
ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী জানান, সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে থাকা অধিকাংশ ট্রলার সুন্দরবনের নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে ট্রলার পাঠানো হবে।
তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম জানান, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার অভিযান শুরু করা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তায় প্রশাসন নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে।
এদিকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় আরেকটি ছোট ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অন্য পাঁচ জেলের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে থাকা মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরও অন্তত পাঁচটি ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলার ডুবে ৭ জেলে নিখোঁজ
Tags
# Amarbangla Feed
# IFTTT
Share This
About News Desk
IFTTT
Tags:
Amarbangla Feed,
IFTTT
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
লেখক-এর বিবরণ
আসসালামু আলাইকুম।
আমরা আপনাদের মাঝে নিয়ে এসেছি সকল চাকরি, সরকারি নোটিশ, লেখাপড়ার খবর, প্রশ্নপত্র এবং অন্যান্য খবর সবার আগে পেতে আমাদের আমাদের সাথে থাকুন।ধন্যবাদ।
No comments:
Post a Comment