false
ফুলটিকে বলা হয় ‘রোজ অব ভেনেজুয়েলা’। বাংলায় অবশ্য অনেক নামে ডাকা হয়। কেউ বলেন ‘পারিজাত’, কেউবা বলেন ‘অশোক’। লোকমুখে নাম পেয়েছে ‘পাখি ফুল’। সবুজ পাতার ছাউনির আড়ালে নতমুখ সিঁদুর রাঙা ফুলটির আরেক নাম ‘সুপ্তি’- যার অর্থ ঘুম বা নিদ্রা। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দক্ষিণ এশিয়া- দীর্ঘ যাত্রা নাম-পরিচয় বদলের বড় কারণ। দেশে বিরল এই ফুলের দেখা মেলে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলীতে, কৈবল্যধাম আশ্রমের পাহাড়ে। আশ্রমের ‘কৈবল্য শক্তি’ বট গাছটি পেরিয়ে পাহাড়ের উপরে মন্দিরে যাওয়ার সিঁড়ির পাশেই বেশ বড় আকারের গাছটিতে এসেছে অজস্র কলি। ফুলও ফুটেছে রাঙা হয়ে। তবে বাইরে থেকে ফুলের দেখা মেলে না। ছাউনির মতো ছড়িয়ে থাকা সবুজ পাতার আড়ালে মাটির দিকে মুখ করে ফুল ফোটে। তাই দেখতে হলে ফুলের রাঙা শিখা ধরে কাছে এগিয়ে যেতে হয়। গোটানো কলি দেখলে শুরুতে ফল মনে করে ভুল হতে পারে। সুপ্তি নামের সঙ্গে মিল রেখে ফুলের চমক যেন তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে কলির আড়ালে। সেই তন্দ্র টুটে ফুল ফুটতে শুরু করে। তখন দূর থেকে অনেকটা পাকা আতার মতো দেখায়। কলির আবরণ সরে গেলে দেখা যায় গুচ্ছবদ্ধ ফুলের মধ্যে একটি একটি করে ফুটতে শুরু করেছে; সে রূপও বেশ মোহনীয়। আর প্রস্ফুটিত ফুলের সৌন্দর্য অপরূপ। সিঁদুর রাঙা একগুচ্ছ ফুল একসঙ্গে ফুটে থাকে অগ্নিশিখার মতো। তাই ইংরেজিতে এই ফুলের এক নাম ‘স্কারলেট ফ্লেম বিন’। বৈজ্ঞানিক নাম Brownea coccinea উদ্ভিদের Magnoliopsida শ্রেণির Fabaceae পরিবারের Brownea গণের একটি প্রজাতি। একই গণের কয়েকটি প্রজাতি আছে বিশ্বব্যাপী। এই প্রজাতির নামের শুরুর Brownea অংশটি এসেছে আইরিশ উদ্ভিদবিদ, ইতিহাসবিদ ও চিকিৎসক প্যাট্রিক ব্রাউনের নামানুসারে। আর coccinea শব্দের অর্থ লাল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক রাসেল বলেন, এটি বিদেশি ফুল। ভেনেজুয়েলা, একুয়েডর, কম্বোডিয়ার নিজস্ব ফুল। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দ্বীপপুঞ্জেও ফোটে। বাংলাদেশে খুব কম দেখা যায়। অনেকে পারিজাত বলে একে ভুল নামে ডাকে। প্রকৃতিবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা এবং বিপ্রদাশ বড়ুয়ার বইতে এই ফুলটিকে পাখি ফুল নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্লাওয়ারস অব ইন্ডিয়া ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে, এই ফুলের অন্য নাম ব্রাউনিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান মাউন্টেন রোজ। বাংলা নাম সুপ্তি। চিরহরিৎ এই গাছ ১৫-২০ ফুট উঁচু হয় সর্বোচ্চ। গাছের কান্ড ও ডালপালা অনেকটা অশোকের মতো। তাই কেউ কেউ অশোক বলে ভুল করেন। পাতা যৌগিক। কচি পাতা- পাখির লেজের মতো ঝোলানো থাকে। পাতা ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। ঢালের শাখা প্রশাখা থেকে দু’পাশে সারিবদ্ধ ভাবে ছড়িয়ে যায়। একইভাবে পাতাও ডালের দুই দিকে সমান সংখ্যায় বিন্যস্ত থাকে। তাই পাতা ছাউনির মতো ছড়ানো হয়। ফুল ফোটে পুরনো ডালে। জানুয়ারির শেষ থেকে মার্চ পর্যন্ত ফুল ফোটে। ফুলের পরে ছয় ইঞ্চি লম্বা বীজের শুটি হয় এই গাছে। অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক রাসেল জানান, ঢাকায় কয়েকটি জায়গায় এই গাছ আছে। যেমন- বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, রমনা পার্ক ও শিশু একাডেমিতে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে, নাটোরের উত্তরা গণভবনেও আছে। তবে চট্টগ্রামে একদম দুর্লভ এই প্রজাতি। গাছটির বিভিন্ন অংশের ওষুধি ব্যবহার রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঠান্ডা ও সর্দিজনিত রোগে ফুলের রস ব্যবহার হয়। গাছের ছাল- ক্ষত শুকাতে, রক্ত পড়া বন্ধ করাতে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে, নারীদের ঋতুস্রাবের সময় যন্ত্রণা দূর করতে ও অধিক রক্তপাত বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। গাছে ফুল ঘিরে ভ্রমরের ওড়াউড়ি দেখা গেল। প্রতিটি ফুল ঘিরে ওড়ে ওড়ে মধু আহরণ করছিল ভ্রমর। মন্দিরে আসা দর্শনার্থীদের কেউ কেউ ফুলের ছবি তুলে নিচ্ছিল। ফুল ছিঁড়েও নিচ্ছিল কয়েকজন। কৈবল্যধাম মন্দিরের দর্শনার্থী দীপঙ্কর দাশ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে গাছটি এখানে দেখছি। প্রতি বছর বসন্তে খুব সুন্দর ফুল ফোটে। যারাই এখানে আসে, একবার গাছটি দেখে ফুলের আকর্ষণে। আমারবাঙলা/এমআরইউ
বসন্ত রাঙাচ্ছে রোজ অব ভেনেজুয়েলা
Tags
# Amarbangla Feed
# IFTTT
Share This
About News Desk
IFTTT
Tags:
Amarbangla Feed,
IFTTT
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
লেখক-এর বিবরণ
আসসালামু আলাইকুম।
আমরা আপনাদের মাঝে নিয়ে এসেছি সকল চাকরি, সরকারি নোটিশ, লেখাপড়ার খবর, প্রশ্নপত্র এবং অন্যান্য খবর সবার আগে পেতে আমাদের আমাদের সাথে থাকুন।ধন্যবাদ।
No comments:
Post a Comment