https://ift.tt/pST1yl6
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পর ১০ লক্ষাধিক শিশুকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিলের মধ্যে এই রোগের সন্দেহে অন্তত ৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিশ্চিতভাবে হামজনিত মৃত্যু ১৭টি। হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যার বিস্তার রোধ করতে জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকা দেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে ঘাটতি এবং বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির মধ্যে দীর্ঘ বিরতি যার পেছনে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাজ করেছে সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ সর্বশেষ জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচি চালায় ২০২০ সালে, তবে ২০২৪ সালে পরিকল্পিত পরবর্তী কর্মসূচি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাতিল করা হয়। সরকার টিকা দেওয়ার বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করেছে এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বৈশ্বিক টিকা জোট গাভির সহায়তায় এই কর্মসূচি রোববার (৫ এপ্রিল) শুরু হয়েছে। প্রথমে ১৮টি জেলার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এটি চালু করা হবে এবং আগামী ৩ মে থেকে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। রাজধানী ঢাকা ও কক্সবাজারে ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদানের আওতা বাড়াতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকা পায়নি এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘বাংলাদেশজুড়ে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, যা হাজার হাজার শিশুকে বিশেষ করে সবচেয়ে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণদের গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এটি টিকাদানে বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। বেশ কয়েকটি অঞ্চলের হাসপাতাল ইতোমধ্যেই রোগীতে উপচে পড়ছে এবং সীমিত সক্ষমতায় চলছে, যা সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা খুব সহজেই ছড়ায়, বিশেষ করে যারা সম্পূর্ণভাবে টিকা নেয়নি তাদের মধ্যে। প্রথমে সাধারণ সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা যায়, এরপর কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা সাধারণত মুখ ও কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস, কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। বিশ্বজুড়েই টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় আবারও হাম ছড়িয়ে পড়ছে, যদিও অনেক বাবা-মা এখন তাদের সন্তানদের দ্রুত টিকা দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসছেন এবং অনেক জায়গায় শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। ২০২৪ সালে সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনের পর কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলেছিল, যার ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং ওই বছরের জুনে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ৬ হাজার ৪৭৬ শিশুর মধ্যে হাম-সদৃশ উপসর্গ দেখা গেছে। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশিদ এএফপিকে বলেন, আগের বছরের তুলনায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা দুটিই বেশি। তিনি সম্ভাব্য এই প্রাদুর্ভাবের জন্য একাধিক কারণকে দায়ী করেন, যার মধ্যে টিকার ঘাটতিও রয়েছে।
দেশে ২০ দিনে হাম সন্দেহে ৯৮ শিশুর মৃত্যু
Tags
# Amarbangla Feed
# IFTTT
Share This
About News Desk
IFTTT
Tags:
Amarbangla Feed,
IFTTT
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
লেখক-এর বিবরণ
আসসালামু আলাইকুম।
আমরা আপনাদের মাঝে নিয়ে এসেছি সকল চাকরি, সরকারি নোটিশ, লেখাপড়ার খবর, প্রশ্নপত্র এবং অন্যান্য খবর সবার আগে পেতে আমাদের আমাদের সাথে থাকুন।ধন্যবাদ।
No comments:
Post a Comment