false
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পর, দেশটির নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার (২২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। রুবিওর সঙ্গে একান্ত বৈঠকের আগে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত জোট কোয়াডের এক বৈঠকে যোগ দেন জয়শঙ্কর। ওই বৈঠকে রুবিও ছাড়াও জোটের আরো দুই দেশ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের তাকেশি ইওয়ায়াও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাঝে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রচেষ্টা চলছে। বৈঠকের তোড়জোড় বিষয়ে জ্ঞাত দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছে। এদিকে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও এসেছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কী কথা হয়েছে তা অবশ্য জানাননি তিনি। ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জয়শঙ্কর। সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন। সেটি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে শোনা যায় জয়শঙ্করকে। গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ট্রাম্প। ওই শপথ অনুষ্ঠানে বিশ্বের অনেক নেতা আমন্ত্রণ পেলেও মোদি বাদ যান। অতিথির তালিকায় ছিলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর। তিনি এখন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর মঙ্গলবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্টেট ডিপার্টমেন্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সামাজিকমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জয়শঙ্কর এ নিয়ে লিখেছেন, মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমরা আমাদের বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি, যার তিনি একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি আরো বলেন, এ ছাড়া, বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে মতবিনিময় করেছি। আমাদের কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নিতে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি অপেক্ষা করছি। জানা যায়, এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দুই দেশের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর এবং রুবিও। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার যৌথ সম্পর্ক জোরালো করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সম্পর্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় অঞ্চলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দিয়েছেন রুবিও এবং জয়শঙ্কর। এ ছাড়া দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং অনিয়মিত অভিবাসন সম্পর্কিত উদ্বেগ সমাধানে ভারতের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ইচ্ছার ওপরও জোর দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত জোট কোয়াডের এক বৈঠকে রুবিওসহ জোটের আরো দুই দেশ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের তাকেশি ইওয়ায়ার সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে জোটের দেশগুলো নিজেদের পররাষ্ট্র নীতি তুলে ধরেন বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, কোয়াডের বিস্তৃত আলোচনায় একটি মুক্ত, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় অঞ্চল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জোর দিয়েছেন সকল দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিবৃতিতে বলেন, আমাদের চার জাতি এই প্রত্যয় ধারণ করে যে সমুদ্রসীমাসহ সর্বক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন, অর্থনৈতিক সুযোগ, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তি। একই সঙ্গে আমরা বলপ্রয়োগ বা নিপীড়নের মাধ্যমে এ স্থিতিবস্থা বদলে ফেলার চেষ্টার যেকোনো একতরফা পদক্ষেপের জোরাল প্রতিবাদ জানাই। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি এতদঅঞ্চলে গ্রহণযোগ্য ও স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খলব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা। এ ছাড়া আগামী মাসগুলোতে কোয়াডের কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তারা জানান, ভারতের আয়োজনে কোয়াড নেতাদের পরবর্তী শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি চলার প্রেক্ষাপটে তারা (পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা) নিয়মিতভাবে সাক্ষাৎ করবেন। শুধু তাই নয়, নতুন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। আরেক পোস্টে জয়শঙ্কর লিখেন, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজের সঙ্গে দেখা করতে পেরে খুব ভালো লাগল। আমরা আমাদের বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আলোচনা করেছি, যাতে পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা যায় এবং বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। একটি সক্রিয় এবং ফলপ্রসূ এজেন্ডা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ। কোয়াড অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে শুরু হয়। বাইডেন প্রশাসন এটি আরো উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করে। ট্রাম্প-মোদির বৈঠক আয়োজনে ব্যাপক তৎপরতা ভারতের এদিকে ভারতীয় ও মার্কিন কূটনীতিকরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাঝে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছেন। বৈঠক আয়োজনের আলোচনার বিষয়ে জানেন, ভারতীয় এমন দু’টি সূত্র বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে। সূত্র বলেছে, চীনকে মোকাবিলা করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি ও নিজ নাগরিকদের সহজে দক্ষ কর্মী ভিসা প্রাপ্তিতে আগ্রহী মার্কিন কৌশলগত অংশীদার ভারত। দুই দেশের সরকার প্রধান বৈঠকে মিলিত হলে তাদের এজেন্ডায় এ দুটি বিষয় থাকবে। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের বিষয়ে নয়াদিল্লির কর্মকর্তাদের মাঝে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক রয়েছে এমন দেশগুলোর তালিকায় ভারতের নাম যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার প্রেসিডেন্টের শপথ নেওয়ার পর সেসব দেশের বিরুদ্ধে পাল্টা উচ্চ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে একাধিক সূত্র বলেছে, ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে ওয়াশিংটনকে কিছু ছাড় দিতে ইচ্ছুক নয়াদিল্লি। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতকে জানানো হয়নি। ভারতে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও চিন্তা-ভাবনা করছে দিল্লি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর একেবারে শুরুর দিকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন মেয়াদে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক সূচনায় সহায়তা করবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফর করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সময় মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটের আহমেদাবাদের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক লাখেরও বেশি জনতার উপস্থিতিতে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবিশ্বাস্য বাণিজ্য চুক্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর আগে, ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদির সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন শহরে ‘হাউডি মোদি’ সমাবেশের আয়োজন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই অনুষ্ঠানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন; যাদের বেশিরভাগই ভারতীয়-আমেরিকান। বিশ্বে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উভয় দেশের মাঝে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২৩-২৪ সালে ১১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ওই অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের উদ্বৃত্ত বাণিজ্যের পরিমাণ ৩২ বিলিয়ন ডলার। জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতীয় দূতাবাসে সংবাদ সম্মেলনের একেবারে শেষ পর্যায়ে জয়শঙ্করকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা? জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘হ্যাঁ, বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি না যে, এ বিষয়ে বিস্তারিত বলাটা সমীচীন হবে।’ আমারবাঙলা/এমআরইউ
জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠক, বাংলাদেশ নিয়েও আলোচনা
Tags
# Amarbangla Feed
# IFTTT
Share This
About News Desk
IFTTT
Tags:
Amarbangla Feed,
IFTTT
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
লেখক-এর বিবরণ
আসসালামু আলাইকুম।
আমরা আপনাদের মাঝে নিয়ে এসেছি সকল চাকরি, সরকারি নোটিশ, লেখাপড়ার খবর, প্রশ্নপত্র এবং অন্যান্য খবর সবার আগে পেতে আমাদের আমাদের সাথে থাকুন।ধন্যবাদ।
No comments:
Post a Comment