সীতাকুণ্ড শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু ৭, বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা - সবার জন্য শিক্ষা, লেখাপড়া বিষয়ক বাংলাদেশের প্রথম ব্লগ সাইট।

সাম্প্রতিক

সীতাকুণ্ড শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু ৭, বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

https://ift.tt/s1Tf7xB
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি শিপইয়ার্ডে এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস ছড়িয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ৭, চারজনের পরিচয় শনাক্ত ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই ভাই মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাদের সবার বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায়। বাকি তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। তবে সকাল ৯টার দিকে সেখানে থাকা একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংকে গ্যাস লিকেজের খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলের কাছে গেলে সেখানে গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ঘটনার সময় ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। গ্যাস লিকেজের খবর পেয়ে কিছু লোক সেখানে জড়ো হলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। ইউএনও বলছেন, তদন্ত ছাড়া কারণ নিশ্চিত নয় সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেনও সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ডে ভাঙচুর দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, শতাধিক বিক্ষুব্ধ মানুষ ইয়ার্ডে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং শিপইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি তদন্তের পরই বিস্তারিত জানা যাবে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আমার বাঙলা/আরএ

No comments:

Post a Comment