রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনা: ব্যবধান ও সমন্বয়ের নতুন রাজনীতি - সবার জন্য শিক্ষা, লেখাপড়া বিষয়ক বাংলাদেশের প্রথম ব্লগ সাইট।

সাম্প্রতিক

রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনা: ব্যবধান ও সমন্বয়ের নতুন রাজনীতি

https://ift.tt/Jv1pPxi
এ, কে, এম শফিউল আযম রুমি: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কিছুই লেখার আছে, জানানোর আছে আবার আশাও আছে। আমার যতটুকু জানা, শোনা, দেখা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও চাকুরী জীবনের যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে, ততটুকু অভিজ্ঞতাকে সকলের সাথে ভাগাভাগি করা উচিত বলে মনে করি। আজ অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো। (১) রাজনৈতিক দল বলতে আমরা কী বুঝি? (২) বর্তমানে রাজনৈতিক দল বা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বা দর্শন নিয়ে দলের নেতা ও কর্মীরা কি ভাবছে বা করছে? রাজনীতি মানে হলো রাজ্য শাসনের নীতি। যেহেতু রাজা প্রথায় আমাদের বিশ্বাস উঠে গেছে সেহেতু রাজ্য শাসনের জন্য আমরা গঠন করেছি কিছু রাজনৈতিক দল যেগুলো দেশ শাসনের জন্য প্রতিযোগিতা করবে। যারা এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে তারা নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য দেশের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিবে এবং তাদের নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করবে। রাজনৈতিক দল মানুষকে নিজেদের নীতিমালা এবং আদর্শ সম্পর্কে জনগনকে জানিয়ে তাদেরকে আকৃষ্ট করবে। তাদের খোজখবর নিয়ে সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকবে। দেশের এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে এবং উন্নয়নের পথের দিশারি হবে। তারা এই সংগঠনের প্রয়োজনে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়েও বিভিন্ন কমিটি গঠন করবে । সোজাসাপ্টা ভাবে বলতে গেলে দেশের কল্যাণে কাজ করবে, দেশ শাসন করবে। বাস্তবিক অর্থে রাজনৈতিক দল দুই রকমের। একটি "কুদল" আর একটা “রাজনৈতিক দল”। "কুদল" একটি রাজনীতি বিহীন দল। এর নেতা ও কর্মীরা মনে করে রাজনীতি মানে অমুক ভাই - তমুক ভাই এর পেছনে জিন্দাবাদ আর শুভেচ্ছা শ্লোগান দেওয়া । এরা শুধুমাত্র তাদের সেই দলেরই নেতা-কর্মীদের সকল সুযোগ-সুবিধার জন্যই কাজ করে। সেটির কারণে অন্য কোন নাগরিকের ক্ষতি হলেও তাদের কিছু আসে যায়না। কিন্তু আসল “রাজনৈতিক দল” ব্যাপক বৃহত্তর স্বার্থে গঠিত হয়। রাজনৈতিক দল জনকল্যাণে গঠিত হয়। দেশের কোন সমস্যা বা বিপদে সেই সংগঠনের নেতারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে। রাজনৈতিক দল তার দেশের মানুষ ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করে। দেশের মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে, সেটা নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে আমাদের এইটার বেশ অভাব হয়ে গেছে। দীর্ঘ ১৭,১৮ বছর পর বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ অবশেষে একটা নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। সেই নির্বাচিত সরকারের কাছেও আমাদের প্রত্যাশা তো অনেক। একসাথে এক্ষুনি সবকিছু পাবোনা, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের যদি টার্গেট ঠিক থাকে, তাহলে আমরা চলতে চলতে একদিন ঠিকই সেই টার্গেটে পৌঁছে যাবো। একটি সুষ্ঠু-অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বর্তমানে ক্ষমতায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম-এনসিপি জোট আছে বিরোধী দল হিসেবে। বিরোধী দল গঠন মূলক সমালোচনা করবে এটিই স্বাভাবিক। বিএনপি সরকার খুবই দক্ষতার সাথে সংসদে বিরোধী দলকে সামাল দিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তৃণমূলে । 'বিএনপি' দেশের সরকার এবং তাদের রাজনৈতিক দলকে একসাথে করে ফেলেছে। আমার কাছে মনে হয় যে, দেশ শাসনকে আলাদা করা প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমটাকে আলাদা করা উচিত। আমরা যদি দেশ শাসনের জন্য দলের কাছে কিছু আশা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী দলকে দলের স্বার্থ ব্যতিরেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। কে আমার আত্মীয়, কে আমার দলের লোক, কে আমার দুঃসময়ে পাশে ছিল এগুলো নিয়ে থাকলে তো সার্বজনীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বিশ্ব যেমন এগিয়ে যাচ্ছে একইসাথে আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। পুরোনো ধাচে না থেকে আমাদের সকলেরও চিন্তাধারা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে । আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া সম্পর্কে যতটুকু বুঝেছি- শুনেছি-দেখেছি, তিনি ১৭ বছর বিদেশে ছিলেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় উনি যথেষ্ট পড়াশোনা করেছেন এবং তার পিতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ, তার রাষ্ট্রভাবনা, দেশ পরিচালনার কৌশল, বৈদেশিক কুটনীতি এসবকিছু নিয়ে বেশ চর্চা করেছেন। সেই সাথে সাথে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলে দেশনেত্রীর পাশে থেকে তার শাসনকার্য পরিচালনার হাতেখড়ি হয়েছে । একইসাথে একটা ভালো দেশে তিনি ১৭ বছর কাটিয়ে এসেছেন। সেই দেশের শাসন ব্যবস্থা, অর্থ ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, সামাজিক অবস্থা তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেখে এসেছেন। আমরা আশাবাদী তিনি সেইসমস্ত অভিজ্ঞতা এবং চর্চার উপরে নির্ভর করে আমাদের দেশকে পরিচালনা করবেন এবং দেশের এই জনগণকে সেবা দিবেন । তাহলে আমরা নিশ্চয়ই একটা ভালো দেশ, ভালো সমাজ পেতে পারি । আরেক দিক থেকে আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে যে জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমটা আলাদা ভাবে পরিচালনা করবেন । শুধুমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নয়, প্রতিটা রাজনৈতিক দলেরও এলাকাভিত্তিক কমিটি আছে । কমিটির সভাপতি আছে, সেক্রেটারি আছে, সাংগঠনিক সম্পাদক আছে, কৃষি সম্পাদক আছে, সমাজসেবা সম্পাদক আছে, প্রাণিসম্পদ সম্পাদক সহ বিভিন্ন সম্পাদক আছে। কিন্তু দলের কমিটিতে নামমাত্রই এই সম্পাদকগুলো আছে। সম্পাদকগন তাদের নির্দিষ্ট দ্বায়িত্ব পালন করেন না। একটা দলীয় কমিটির শুধুমাত্র তাদের সভাপতি-সেক্রেটারীর উপরেই সে দল নির্ভর করে। তাই যদি হবে, তাহলে কমিটিতে এত সম্পাদক, এত সদস্য রাখার তো কোনো প্রয়োজন হয় না। একটা দলের যে কৃষি সম্পাদক আছে, সে যদি তৃণমূল থেকে গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে তার কৃষির খবরাখবর রাখে, সুবিধা-অসুবিধা, চাহিদা-প্রয়োজন গুলি জানে এবং সে তথ্যগুলো নিয়ে যদি পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন কমিটি, উপজেলা কমিটি, জেলা কমিটিতে আলোচনা হয়, তাহলে যেটা হয় সেটা হচ্ছে সেই রাজনৈতিক দল তৃণমূল থেকে কী দেখছে আর দল সরকার পরিচালনা কীভাবে করছে দুটির মধ্যে ডাটা তুলনা করার সু্যোগ সৃষ্টি হয়। এবং তুলনা করলেই কিন্তু সরকার বুঝতে পারে যে কোথায় সরকারের ভুল আছে, আর কোথায় সঠিক আছে। সোজা কথা আমরা যে রাজনীতির চর্চা করি, সেটি দেশের কল্যাণের জন্য করি । বাংলাদেশের আপামর জনগনের জন্য কল্যাণের ভাবনাটা ভেবে যদি বর্তমান বিএনপি সরকার এবং বিএনপি রাজনৈতিক দল সমান্তরালভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং একইসাথে বিরোধী দল পজিটিভ গঠনমূলক সমালোচনা করে তবেই আমরা একটা সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে পারবো যেখানে থাকবে না দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার। আশা করি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলি আমাদের দেশকে একটি দূর্নীতি মুক্ত, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। লেখক: এ, কে, এম শফিউল আযম রুমি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমার বাঙলা/আরএ

No comments:

Post a Comment