ইসরায়েল আমাদের মেধাশূন্য করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করছে: আরাঘচি - সবার জন্য শিক্ষা, লেখাপড়া বিষয়ক বাংলাদেশের প্রথম ব্লগ সাইট।

সাম্প্রতিক

ইসরায়েল আমাদের মেধাশূন্য করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করছে: আরাঘচি

https://ift.tt/G5Yaoe1
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশটির শিক্ষা ও একাডেমিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের বিজ্ঞানী এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা মূলত আগ্রাসীদের ‘হতাশার’ প্রতিফলন এবং এটি কোনোভাবেই দেশটির বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আরাঘচি অভিযোগ করেন, ইরানের মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ছক অনুযায়ী এই আক্রমণগুলো চালানো হচ্ছে। তার মতে, জ্ঞানকে কখনো বোমা মেরে স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। বিবৃতিতে আরাঘচি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল এবং তার অপরাধের অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে তারা বোমা হামলার মাধ্যমে মেধাশূন্য ও বিজ্ঞানকে মুছে দিতে পারবে। তিনি বিগত বছরগুলোতে ইরানি বিজ্ঞানীদের হত্যা এবং পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বর্তমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা সেই একই ধারার অংশ। তিনি ওয়াশিংটন এবং জায়নবাদী সরকারকে উদ্দেশ্য করে মনে করিয়ে দেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল ইরানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য তেহরানের দৃঢ় মনোবল এবং পশ্চিমা চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার বার্তাই বহন করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোট ইরানের বিরুদ্ধে এই বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করে। গত এক মাসে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাসপাতালের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ও অসামরিক স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে ইরানের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং গবেষণা কার্যক্রম বর্তমানে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর বিপরীতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও বসে নেই এবং তারা ইতিমধ্যে অধিকৃত ভূখণ্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তেহরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে যে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার প্রতিটি ঘটনার জন্য আক্রমণকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলে বর্তমানে এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলার ঘটনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। আপাতত ইরান সরকার তাদের বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

No comments:

Post a Comment