শনিবারে ঈদুল ফিতর - সবার জন্য শিক্ষা, লেখাপড়া বিষয়ক বাংলাদেশের প্রথম ব্লগ সাইট।

সাম্প্রতিক

শনিবারে ঈদুল ফিতর

false
সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে শুক্রবার উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় গালফ নিউজ। চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এবার দেশটির মানুষ ৩০টি রোজা রাখবেন। ভৌগোলিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের এক দিন পর বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়। সে হিসাবে আগামী শনিবার বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর। আজ চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসছে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর সমাগত ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় এই উৎসব অন্তহীন আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন সকালে ঈদের নামাজ আদায়, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে সারাবিশ্বের মুসলিমরা উদযাপন করেন এ উৎসব। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সামাজিক সম্প্রীতির অপূর্ব মেলবন্ধনই ঈদের মূল সৌন্দর্য। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে শোনা যাবে ঈদুল ফিতর নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান– ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ছাড়াও এ গানের সুর ভেসে আসে বাড়ির আপনজনের কণ্ঠ থেকে। ঈদের দিন ভোরে গোসল সেরে নতুন বা পরিষ্কার পোশাক পরে, সুগন্ধি মেখে মুসল্লিরা ঈদগাহ বা মসজিদের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়। পরে পরিবার, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া এবং বেড়াতে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। ঈদের আমেজ শুরু হয় মূলত রমজানের শুরু থেকে। প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে লাখো মানুষ ইতোমধ্যে গ্রামের বাড়ির পথে পাড়ি জমিয়েছে। এখনও ছুটছে মানুষ। এতে রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ছে। গত মঙ্গলবার সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে ঈদের দিন। আজ বৃহস্পতিবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে পরদিন শনিবার ঈদ। ঈদ উপলক্ষে যখন অধিকাংশ মানুষ ছুটিতে যাচ্ছেন, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের কোনো ছুটি নেই। পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে ঈদবাজারে জমজমাট ভাব লক্ষ্য করা গেছে। মার্কেটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতিও ব্যাপক। যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকে খরচ কমিয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমেছে। বৈশ্বিক রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেও অনেকে ব্যয় কমিয়েছেন। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ধর্মীয় চেতনা, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক সম্প্রীতির আবহে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আগামী শুক্র বা শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আমার বাঙলা/আরএ

No comments:

Post a Comment