কোচিং বাণিজ্যের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা - সবার জন্য শিক্ষা, লেখাপড়া বিষয়ক বাংলাদেশের প্রথম ব্লগ সাইট।

সাম্প্রতিক

কোচিং বাণিজ্যের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

https://ift.tt/TRS4xLm
পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরাফাতুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে কোচিং পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ওই শিক্ষকের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে পিরোজপুর শহরের কৃষ্ণচূড়া মোড় এলাকায় শহীদ ওমর ফারুক কিন্ডারগার্টেনের পেছনের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, ওই কক্ষে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরাফাতুর রহমান অষ্টম শ্রেণির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং করাচ্ছিলেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর সুযোগ নেই। এছাড়া পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বর্তমানে জেলার সব ধরনের কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওই শিক্ষক নিয়মিত কোচিং পরিচালনা করছেন—এমন তথ্য পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের জন্য কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনায় স্টার নিউজ ও দৈনিক নয়া দিগন্তের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, চ্যানেল ওয়ানের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শাফিউল মিল্লাত এবং চ্যানেল এস-এর পিরোজপুর প্রতিনিধি জিয়াউল হক আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। চ্যানেল ওয়ানের জেলা প্রতিনিধি শাফিউল মিল্লাত বলেন, “সংবাদ সংগ্রহের জন্য শহরের কৃষ্ণচূড়া মোড়ের কোচিং সেন্টারে গেলে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আরাফাতুর রহমান কোনো কথা না শুনেই আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখারও চেষ্টা করা হয়। পরে আমরা কোনোমতে সেখান থেকে বের হয়ে আসি। এ ঘটনায় একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।” অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক আরাফাতুর রহমান বলেন, “সাংবাদিকরা হঠাৎ করে আসায় আমি মেজাজ ধরে রাখতে পারিনি। তাই এমন ঘটনাটি ঘটে গেছে।” পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর তালুকদার বলেন, “আমি ১০ থেকে ১২ দিন আগে শিক্ষকদের নিয়ে কোচিংয়ের বিষয়ে মিটিং করেছি। এরপরও ওই শিক্ষক কেন এমন করছেন, তা আমার জানা নেই।” পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “কোচিং সেন্টারে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনজন সাংবাদিক শিক্ষক কর্তৃক হামলার শিকার হয়েছেন—এমন একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং পরিচালনার অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। আমার বাঙলা/ রাব্বি

No comments:

Post a Comment